Hello
সবকিছু ঠিকঠাকমতোই চলছিল
কিন্তু হঠাৎ করে কিভাবে যেন তার মাস্ক খুলে পড়লো।
শহরজুড়ে লোকদের দৃষ্টি সরে গেল কাজল কালো আঁখি থেকে সুনিপুনভাবে লিপিস্টিকে আঁকা লাল টুকটুকে ঠোঁটে।
যেন এই শহরের কেউ কখনো দেখেনি এমন অঙ্কিত ঠোঁট
যেন মানিক মিয়া এভেনিউ দিয়ে খটখট শব্দে কেউ হেঁটে যায়নি কফি হাউজে।
যেন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগে রক্তিম আকাশ দেখে কেউ বলেনি
আহা কী সুন্দর!
অতঃপর সে সবার সম্মোহনী দৃষ্টি তার কারুকার্য খচিত পার্সে ঢুকিয়ে নিল।
ও হ্যাঁ মাস্কটাও পরে নিল।
কলাবাগানের মোড়ে এক ভয়াবহ জটলায় ধুপ করে রাত নেমে এলে
কিছু বখাটে ছেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লেকের ধারে আড্ডায় মেতে উঠলো
কাজল কালো আঁখি, লাল ঠোঁট অথবা আঁকাবাঁকা পথ
এখন আর তারা পাত্তা দেয় না।
ধানমন্ডি পাঁচে আবার মাস্ক খুলে পড়লে
লাল ঠোঁটের কিনারায় ঝুম বৃষ্টি নামে।
কেউ যেন স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই ছুঁয়ে দিতে চায় বৃষ্টির জল
ছুঁয়ে দিতে চায় আকাশ
ছুঁয়ে দিতে চায় জমিন
ছুঁয়ে দিতে চায় মন প্রাণপণ।
কাট! বলে নির্মাতা প্যাকাপ করে ফেলে অনন্যোপায় জীবনের গল্প।
প্রযোজক খুঁজে পান্থপথের মোড়ে নান কাবাবের ঝাঁঝ
অথচ তার মাস্কের ফাঁক গলে এখনো শাহবাগের বিস্ময়।
পরদিন আবার মাস্ক খুলে পড়ে শহরের অন্যকোন রাস্তায়
অথবা ঝিঝিম সন্ধ্যায়।