আজ ব্র্যাক সেন্টারে মিটিং শেষে আর অফিস যেতে ইচ্ছে করলো না। ভাবলাম বাসায় গিয়ে বিবিকে একটু চমকে দেই।
মনে পড়ল বিয়ের প্রথম ছয় মাস চাকরি-বাকরি ছেড়ে দিয়ে বিবির আঁচলের তলায় ঘাপটি মেরে ছিলাম। যেনো ভরা বর্ষার পুলকিত ব্যাঙ। অফিসের কলিগরা বলেছিল কী পাগলামি! মানুষ আর বিয়ে করে না?
আমার কথা ছিল মন থাকবে বিবির কাছে আর দেহ থাকবে অফিসে? করলাম না এই চাকরি। এটলিস্ট ছয় মাস আমি-তুমি তুমি-আমি না করলে কীসের হানিমুন। জীবনতো একটাই। চাকরি গেলে চাকরি পাওয়া যাবে। কিন্তু এই ভালোলাগা, ভালোবাসা, সময়, আর ফিরে পাওয়া যাবে!
বাসায় ফেরার পথে মনে হলো মাথার চুলগুলো বড় হয়েছে বেশ। স্টাইল জোনে ঢুকলাম। নরসুন্দর বলল স্যার গরম ছাঁট দিয়ে দেই।
আমি বললাম সেটা আবার কি!
স্যার এটা এখন খুব চলছে। গরম ছাঁট মানে আপনার গরম লাগবে না।
আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে। লাগাও গরম ছাঁট।
চুল কাটানো শেষে আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে ওঠলাম। দেখলাম আমার আদলে একটা টার্কি মোরগ দাঁড়িয়ে আছে।
মনে মনে ভাবলাম মন্দ কি। বিবিকে চমকে দেয়াটা জমে উঠবে বেশ।
সুউচ্চ অট্রালিকার সুরম্য ফ্ল্যাটে সারাদিন প্রতীক্ষার প্রহর গুনে সারিকা। দিনমান প্রতীক্ষায় কেউ পথচেয়ে বসে আছে এটা ভাবতে নিজেকে কেমন সুখী সুখী লাগে। এরকম গুণবতী বিবি পেয়ে আমি সত্যিই ধন্য। সবসময়ই ভাবি কবে কোন পুণ্য করেছিলাম তারই ফলস্বরূপ এই প্রাপ্তি।
দরজায় কলিং বেল চাপ দিতে গিয়ে থমকে গেলাম। ঘটা করে বাসায় এলে চমক হবে কী করে!
আমার মানিব্যাগে একটা ইমারজেন্সি চাবি থাকে সেটা দিয়ে সন্তর্পণে দরজা খুলে ফেললাম। আমার হাতে পাঁচটি পাঁচ রঙের গোলাপ। পাঁচ বছরের বৈচিত্র্যময় জীবনের প্রতীক পাঁচটি রঙ্গিন গোলাপ। সারিকা নিশ্চয়ই খুশির চমকে জ্ঞান হারাবে।
ড্রইং রুমের একুরিয়ামের ফিসগুলো আমাকে দেখতে পেয়ে চঞ্চল হয়ে ওঠলো। আমি ইশারায় তাদের চুপ করতে বললাম।
ডাইনিং স্পেসে গিয়েও সারিকার কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না। বেড রুমে চুপিচুপি উঁকি দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। যা ভেবেছিলাম তাই! এসি ছেড়ে দিয়ে কম্বল জড়িয়ে মাথা পর্যন্ত ঢাকা দিয়ে সারিকা ঘুমাচ্ছে।
আমার চমকে দেয়া প্ল্যান কি বিফলে যাবে? আমার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল। খুব চুপিচুপি সারিকার কম্বলের নিচে ঢুকে পড়লাম। সারিকাকে জড়িয়ে ধরতেই ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলে ওঠলো – সবুজ! আর বিরক্ত করো না তো! অনেক হয়েছে। এবার ঘুমাতে দাও!
আমি পাথরের মুর্তির ন্যায় সারিকাকে জড়িয়ে ধরে থাকলাম। তার মরালী গ্রীবায় আমার গরম নিঃশ্বাস কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেল। মনে হচ্ছিল আমার মাথায় গোটা অট্রালিকা ভেঙ্গে পড়ছে। আমি সত্যি চমকে গেলাম। আমার কি উচিৎ হবে – ‘কে এই সবুজ?’ প্রশ্নটি করে সারিকাকে চমকে দেয়া?
Comments (0)
Please login to leave a comment.
No comments yet. Be the first to comment!